ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দেখেই চিনুন গরু ইনজেকশন অথবা ট্যাবলেট খাওয়া কিনা?

বিবিধ ডেস্ক
দেখেই চিনুন গরু ইনজেকশন অথবা  ট্যাবলেট খাওয়া কিনা?
Advertisement (Adsense)

পবিত্র ঈদুল আযহা, এ উৎসবকে কেন্দ্র করে জমে উঠতে শুরু করেছে রাজধানীসহ দেশের সব কোরবানির পশুর হাট। হাটগুলো ভরে উঠছে নানা আকারের গরু-ছাগলে। কিন্তু এত গরুর মধ্য থেকেও নিজের মনের মতো একটি ভালো গরু কেনা সহজ নয়। কৃত্রিমভাবে স্টেরয়েড খাইয়ে মোটাতাজা গরুর ভিড়ে সত্যিকার স্বাস্থ্যবান ও সুস্থ্ গরু চেনা একটু কঠিন বটে। তবে কিছু বিষয় খেয়াল করলে ভালো গরু চিনে নেওয়া সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টেরয়েডে মোটাতাজা করা গরু না খাওয়াই ভালো। কারণ এ ধরণের গরুর মাংস খেলে হতে পারে নানা ধরনের জটিল রোগ। ষ্টেরয়েড দিয়ে মোটা বানানো গরুর মাংসে থাকে অতিরিক্ত ষ্টেরয়েডযুক্ত পানি। যা স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে। কোরবানির ২০ থেকে ২৫ দিন আগে অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রতিটি গরুকে এক সাথে ২০ থেকে ৩০টি পর্যন্ত ট্যাবলেট খাওয়ান। ইনজেকশনও দেওয়া শুরু করেন। এতে গরু অতি দ্রুত মোটা হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত হরমোন খাওয়ানো গরুর মাংস আগুনেও হরমোনমুক্ত হয় না।

এ বিষয়ে পশু চিকিৎসকরা বলেন, অতিমাত্রায় হরমোন ব্যবহার করলে গরুর শরীরে ব্যাপক পানি জমে। এতে গরু মোটাতাজা দেখায়। কিন্তু গরুর কিডনি, লিভার ও পাকস্থলি নষ্ট হয়ে যায়। এই গরুর মাংস খেলে মানবদেহে নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে নিচের বিষয়গুলোর মাধ্যমে ভালো গরু চিনে নেওয়া সম্ভব:

  •  স্টেরয়েড ট্যাবলেট খাওয়ানো বা ইনজেকশন দেওয়া গরু হবে খুব শান্ত। ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারবে না। পশুর ঊরুতে অনেক মাংস মনে হবে।
  •  অতিরিক্ত হরমোনের কারণে পুরো শরীরে পানি জমে মোটা দেখাবে। আঙ্গুল দিয়ে গরুর শরীরে চাপ দিলে সেখানে দেবে গিয়ে গর্ত হয়ে থাকবে।
  •  গরুর মুখের সামনে খাবার ধরলে যদি নিজ থেকে জিব দিয়ে খাবার টেনে নিয়ে খেতে থাকে তবে বোঝা যাবে গরুটি সুস্থ। যদি অসুস্থ হয়, তবে সে খাবার খেতে চায় না।
  •  সুস্থ গরুর নাকের উপরটা ভেজা ভেজা থাকে।
  •  সুস্থ গরুর পিঠের কুঁজ মোটা ও টান টান হয়।
  •  বিশেষ করে গরুর পা ও মুখ ফোলা, শরীর থলথল করবে, অধিকাংশ সময় গরু ঝিমাবে, সহজে নড়াচড়া করবে না। এসব গরু অসুস্থতার কারণে সবসময় নিরব থাকে। ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারে না। খাবারও খেতে চায় না।

কোরবানির উপযুক্ত পশু:

  •  কোরবানির জন্য দুই বছরের কম বয়সের গরু বা মহিষ এবং ৬ মাসের কম বয়সের ছাগল বা ভেড়া কোনভাবেই উপযুক্ত নয়।
  •  শিং ভাঙ্গা আছে কিনা, লেজ, মুখ, দাঁত, খুর এসব কিছুই ভালোমত পরীক্ষা করে দেখুন।
  •  পশু কেনার আগে এর শরীরের কোথাও ক্ষত চিহ্ন আছে কি-না তা ভালোভাবে দেখে নিন।
  •  গাভী না কেনাই ভালো। কেনার আগে নিশ্চিত হয়ে নিতে চেষ্টা করুন গাভীটি গর্ভবতী কি-না। গর্ভবতী গরু কিন্তু কোরবানি দেওয়া যায় না।

পরামর্শ:

  •  দিনের আলো থাকতে থাকতেই গরু কিনে ফেলুন, কারণ রাতের বেলায় অনেক সময় রোগাক্রান্ত গরু দেখে বুঝতে অসুবিধা হতে পারে।
  •  মোটা গরু মানেই কিন্তু সুস্থ গরু নয়। মোটা গরুতে চর্বি অনেক বেশি হয়, যা খাওয়ার পর মানুষের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। আর এ   ধরণের অস্বাভাবিক মোটা গরু কিন্তু বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করেও মোটাতাজা করা হতে পারে। তাই সাবধান থাকুন।

আরও পড়ুন

Advertisement (Adsense)