ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

যা করলে পিতা-মাতাই হবে সন্তানের সবচেয়ে কাছের বন্ধু

বিবিধ ডেস্ক
যা করলে পিতা-মাতাই হবে সন্তানের সবচেয়ে কাছের বন্ধু
সংগৃহীত : ছবি
Advertisement (Adsense)

বাবা-মা-সন্তানের মধ্যে কেমন সম্পর্ক হওয়া উচিত তা নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনাযা । পিতা-মাতা-সন্তানের সম্পর্ক নিয়ে লিখে থাকেন গবেষক লেখক রবিন ম্যাককুলার। তার মতে ভালো পিতা-মাতা হওয়াটা একটা কঠিন কাজ। আর সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাদের আদর্শবান হিসেবে গড়ে তোলা আরও কঠিন। তবে কিছু কিছু নিয়ম-উপদেশ অনুসরণ করলে বাবা-মা সন্তানের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা যায়।

 পিতা-মাতা-সন্তানের সম্পর্ক বজায় রাখার ১০টি টিপস তুলে ধরা হলো:

১। আপনি সন্তানকে বুঝাতে চেষ্টা করুন যে তাকে আপনি অত্যন্ত ভালোবাসেন, সন্তানের বয়স যাই হোক না কেন। যদি কখনও সম্পর্কের অবনতিও হয় তবুও সন্তান যেন বুঝতে পারে তার বাবা-মার গভীর ভালবাসা রয়েছে তাদের জন্য।

২। আপনার বিশ্বাস এবং ভালো উপলব্ধি সম্পর্কে সন্তানকে শিক্ষা দিন এবং নিজের ভালো গুণের সঙ্গে সন্তানকে পরিচিত করুন। যাতে তারা উদ্বুদ্ধ হয় এবং সন্তানদের জানার আগ্রহ বাড়াতে তাদের অফুরন্ত প্রশ্ন করার সুযোগ দিন। নিজের উপলব্ধি ও বিশ্বাস চাপিয়ে দেবেন না।

৩। সন্তানের জন্য একটি বিশেষ হালকা নাম ঠিক করুন। যা ব্যবহার করবেন পারিবারিক পর্যায়ে। এ ধরনের নাম পিতা-মাতা তাদের আদর বুঝাতে ব্যবহার করেন।

৪। ছেলে-মেয়েদের ঘুমানোর সময় তাদের সাথে দু'একটি ভালো গল্প করুন যা তারা মনে রাখবে। সন্তান বড় হলেও তাদের সঙ্গে ভালো অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন। এমনকি বই পড়ারও অভ্যাস করতে শেখান।

৫। প্রয়োজনে ছেলে-মেয়েদের সাহায্য নিন এবং তারা যেন বুঝতে পারে যে, তাদের পিতা-মাতা তাদের সাহায্য, মতামত বেশ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

৬।  সন্তানদের সঙ্গে একসাথে টিভি দেখা বা টেবিলে একসঙ্গে আহারের অভ্যাস করুন তাদের খাবার টেবিলে যেতে জোর করবে না। বরং তারা যাতে খাবার টেবিলে যেতে আনন্দবোধ করে এবং এমন একটা পরিবেশ তৈরি করুন।

৭। ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে একসঙ্গে খেলাধুলা করুন। কি খেলছেন এটা বড় কথা নয়। পরিবেশটা যেন থাকে আনন্দমুখর।

৮। সন্তানদের পছন্দকে শ্রদ্ধা করতে শিখুন। যদি আপনার তাদের পছন্দ যৌক্তিক না হয় তবে তাদের বুঝিয়ে মত বদলাতে চেষ্টা করুন। জোর করবেন না। এমনকি সন্তানদের খাবার-দাবার, পোশাক নিয়েও শেয়ার করতে পারেন।

৯. সন্তানদের সুন্দর জীবনকে অন্যসবকিছুর চেয়ে অগ্রাধিকার দিতে চেষ্টা করুন। সন্তানরা কিন্তু বুঝতে পারে কখন আপনি তাদের প্রতি যথেষ্ট মনযোগ দিচ্ছেন না। এতে পিতা-মাতার প্রতি সন্তানদের উপলব্ধি নষ্ট হয়।

১০. সন্তানদের জন্য একটি বিশেষ সময় নির্ধারণ করুন যাতে তাদের সমস্যা ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে ওয়ান টু ওয়ান শেয়ার করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে পিতা-মাতার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক শুধু গবেষণা তথ্য, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দিয়ে উন্নয়ন করা যায় না।

অবস্থা বুঝে সন্তানকে হূদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে হবে এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেক সময় সন্তানের চাহিদা ও বিশ্বাসের প্রতি যত্নবান হতে হবে। অনেক সময় সন্তানের কঠিন সিদ্ধান্ত বদলানো যায়, বিপথ থেকে সুপথে আনা যায়, প্রতিকূল মানসিকতা অনুকূলে আনা যায়। আর এজন্য পিতা-মাতার সহযোগিতা ও কৌশলী ভূমিকা খুবই দরকার। পাশাপাশি মনোবিজ্ঞানীদের অভিমত: পিতা-মাতার আচরণ, অভ্যাস, কর্মকান্ড যেন সন্তানের কাছে অনভিপ্রেত মনে না হয় তাও পিতা-মাতাকে দেখতে হবে। কারণ সব সন্তানই তাদের পিতা-মাতাকে মহান আসনে দেখতে চায়।

আরও পড়ুন

Advertisement (Adsense)