ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জানেন কি?

আপনার মস্তিষ্কের মেমোরি কার্ড কত গিগাবাইট?

বিবিধ ডেস্ক
আপনার মস্তিষ্কের মেমোরি কার্ড কত গিগাবাইট?
সংগৃহীত : ছবি
Advertisement (Adsense)

আমরা মেমোরি কার্ড, আইপ্যাড, ল্যাপটপ, আইপড, কম্পিউটার হার্ডডিস্ক ইউএসবি ফ্লাস ড্রাইভ ইত্যাদির মেমোরি ক্যাপাসিটি বা ধারণক্ষমতা নিয়ে আলাপ করি। প্রথমে এক গিগাবাইট, এরপর দুই গিগাবাইট- এভাবে আমরা বলতে পারবো সর্বোচ্চ পেনড্রাইভে হয়তবা ১২৮ গিগাবাইট এবং কিছু কিছু হার্ড ডিস্কে ১ বা ২ টেরাবাইট বা ১০০০ থেকে ২০০০ গিগাবাইট পর্যন্ত মেমোরি ধারণ করতে পারে। মেমোরি স্পেস নিয়ে আমার জ্ঞান অতি নগণ্য। হয়ত এর চেয়ে বেশি মেমোরি ধারণক্ষমতার ডিভাইস থাকতেও পারে; কিন্তু আপনি কি কখনো একবারও ভেবে দেখেছেন মহান রাব্বুল আলআমীন, মহান স্রষ্টা আমাদের মস্তিষ্ক বা ব্রেইনের মেমোরির ধারণক্ষমতা বা মেমোরি ক্যাপাসিটি কত দিয়েছেন।

বহুমাত্রিক গবেষণা ও অংক কষেও মানুষের ব্রেইনের ক্যাপাসটি বা ধারণ ক্ষমতা নির্ণয় করতে সক্ষম হননি বিজ্ঞানীরা। তবে বিজ্ঞানীরা মানুষের মস্তিষ্কের মেমোরি ক্যাপাসিটির যে হিসাব দিয়েছেন তা জানলে আপনি শুধু বিস্মিত হবেন তাই নয়, মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আল-আমীনের সৃষ্টি সম্পর্কেও আপনার ধারণা বদলে যাবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সারা জীবনেও আপনার মস্তিষ্কের মেমোরি কার্ডটি পরিপূর্ণ করতে পারবেন না। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আপনি যদি ৩০ লাখ ঘণ্টা বা ৩৪২ বছর এক নাগাড়ে মস্তিষ্কের মেমোরি কার্ডে সারাক্ষণ ভিডিও ধারণ করেন তাতেও আপনার মস্তিষ্ক নামের সুপার কম্পিউটারের মেমোরি স্পেস পূরণ হবে না।

মস্তিষ্কের মেমোরি স্পেস নিয়ে গবেষণা তথ্যে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজির অধ্যাপক ড. পল রেবার উল্লেখ করেছেন, মানুষের মস্তিষ্কে রয়েছে ১ শত কোটি বা এক বিলিয়ন নিউরন। প্রতিটি নিউরন একে অপরের সঙ্গে গড়ে তুলেছে ১ হাজার সংযোগ যার গাণিতিক সংখ্যা হবে এক ট্রিলিয়নের বেশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি প্রতিটি নিউরন একটি করে মেমোরি ধারণ করে তাহলেও কারও জীবদ্দশায় কখনো মেমোরি স্পেস শেষ হবে না। বরং এক একটা নিউরন অসংখ্য মেমোরি ধারণ করতে সক্ষম। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ব্রেইনের মেমোরি ধারণ ক্ষমতা কমপক্ষে ২ দশমিক ৫ পেটাবাইট অথবা ১ মিলিয়ন জিবি বা ১০ লাখ গিগাবাইট ধারণ ক্ষমতা রয়েছে মস্তিষ্কের মেমোরি কার্ডের। মস্তিষ্কের মেমোরি স্পেসের ব্যাপারে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে অন্তত ৩৪২ বছর লাগবে এই মেমোরি কার্ড পূর্ণ হতে। এব্যাপারে অধ্যাপক পল রেবর উল্লেখ করেছেন, ব্রেইন যদি কোন সর্বাধুনিক ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডারের মত মেমোরি ধারণ করে তাহলে সেই মেমোরি যদি কোন টিভিতে অবিরাম সম্প্রচার করা হয় তাহলে ৩ শতাধিক বছর লাগবে তা প্রচার করতে।

বিজ্ঞানীদের এসব তথ্য থেকে আর একটি সত্য বেরিয়ে এসেছে- মানুষ এক সময় দীর্ঘায়ু সম্পন্ন ছিলেন। কারণ স্রষ্টার কোন সৃষ্টিই অকারণে হয়নি।

ডা. মোড়ল নজরুল ইসলাম

চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ

সূত্র  : দৈনিক ইত্তেফাক

আরও পড়ুন

Advertisement (Adsense)