ঢাকা, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

গরু কেনার আগে যা জানতে হবে !!

স্বাস্থ্য ডেস্ক
গরু কেনার আগে যা জানতে হবে !!
Advertisement (Adsense)

‘আমি কি আর গরু চিনতাম নাকি? গরু কিনতে পাশের বাসার এক মিয়ারে নিয়ে গেছি। তার কথা শুনে গরু কিনে পরে বাসায় যেয়ে দেখি, গরু নড়েও না, চড়েও না। সারা রাত গরুডারে কিছু খাওয়াইতে পারি নাই। গরু একটু পরপরই মেঝের ওপরে শুয়ে পা ছড়াইয়ে দেয়। ঈদের আগের দিন রাতে আমার বাড়ির সবাই গরু পাহারা দিছি।’ গত বছর কোরবানি দেওয়ার জন্য গরু কিনে ঠকা এক ভদ্রলোক তাঁর অভিজ্ঞতার কথা এভাবেই জানাচ্ছিলেন। এ রকম অভিজ্ঞতার শিকার হলে গরু কেনার সঙ্গীটিকে কষে বকাবকি করলেও মনের দুঃখ না ঘোচাটাই স্বাভাবিক। এই নগরের মানুষ যান চেনে, যানজট চেনে, কিন্তু খুব কম মানুষই আছেন যাঁরা গরু চেনেন। কোরবানির পশু কিনতে যাওয়ার আগেই একটু সজাগ হয়ে যাওয়া ভালো। এতে করে নিজের ভাগে মাংস বেশি পাওয়া ছাড়াও নেকিও জুটবে অনেক বেশি। কারণ, সুস্থ-সবল পশু কোরবানি দিলে বেশি বেশি করে গরিব-দুখীদের দান করা যাবে। তাই জেনেশুনে ও বুঝে কোরবানির পশু কোরবানি দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
কোরবানির গরুটা বড় হবে না ছোট, তা কিন্তু নির্ভর করবে আপনার পকেটের ওপর। এ ক্ষেত্রে লোকদেখানো প্রতিযোগিতায় না গিয়ে সাধ এবং সাধ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। সাদা, কালো, লাল—হরেক রঙের গরুর মেলা বসে হাটে। যেই রঙের গরুই কেনেন না কেন, কেনার আগে অবশ্যই চোয়ালের দাঁতটা একটু দেখে নেবেন। দাঁত দেখে গরুর বয়সটা আন্দাজ করা যাবে। আর যাঁরা গরু কিনতে অভ্যস্ত তাঁরা বোধহয় জানেন, গরুর গায়ের লোম দেখে বোঝা যায়, গরুটা ঘরে পালা নাকি আমদানি করা। কোরবানি দেওয়াটা যেহেতু আসল উদ্দেশ্য, তাই অবশ্যই ত্রুটিহীন গরু কিনতে হবে। কারণ ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, ত্রুটিপূর্ণ পশু কোরবানি দেওয়া উচিত নয়। যদিও গাবতলী হাটের এক ব্যাপারি জানালেন, ‘ঈদের আগের রাইতে যারা গরু কিনবার আসে, তাগো মাথায় অত খেয়াল থাকে না। কোনোমতে গরু একটা কিনবার পারলেই হয়। কত লোকরে দেখছি শিংভাঙা, কানকাটা গরু কিনতে।’
গরুর হাট থেকে গরু কেনার সময় দেখলেন গরু বেশ তাগড়া, কিন্তু বাড়িতে আনার পরই ঝিমাচ্ছে। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছে, খাবার-দাবার না খেয়ে মুখ দিয়ে লালা ঝরাচ্ছে। এ রকম কোনো লক্ষণ দেখলে বুঝবেন, গরুটি অসুস্থ। সম্ভবত খুরারোগে আক্রান্ত। গরুর হাটের ব্যাপারিরা অবশ্য এই কথা আমলে আনেন না। তাঁরা আপনাকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য বলতে পারেন, ‘গরুর মুখে সব সময় লালা ঝরে, ছোটবেলায় পড়েন নাই, গরু অবসর সময়ে জাবর কাটে। জাবর কাটার কারণে মুখ দিয়ে ফেনা ঝরছে।’ গরু ব্যবসায়ীদের এই মিষ্টি কথার ফাঁদে পড়ার কী দরকার? তাঁদের কথার মোক্ষম জবাব দিতে পারেন এভাবে, সারা রাত ট্রাকে ভ্রমণ করে যেসব গরু ঢাকা শহরে এসেছে, তাদের পেটে ঠিকমতো দানাপানি পড়েনি। সেই সঙ্গে পেটে, পিঠে খরিদ্দারের আঙুলের গুঁতোয় গরুর যে অবস্থা হয়, তাতে অসহায় পশুগুলোর জাবর কাটা আসলেই অস্বাভাবিক।
গরুর খুরারোগ প্রসঙ্গে সতর্কবাণী জানিয়ে কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতালের প্রধান ভেটেরিনারি অফিসার অরবিন্দ কুমার সাহা জানান, খুরারোগ ছোঁয়াচে। এ সময় হাটের গরুর ক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যা এটি। খুরারোগে আক্রান্ত গরুর পায়ের খুরে ঘা হয় আর মুখ দিয়ে সব সময় লালা ঝরে। গরু কেনার সময় অবশ্যই গরুর পায়ের খুর দেখে নেওয়া উচিত।
সুস্থ-সবল গরু চেনার পূর্বশর্ত হিসেবে পশু বিশেষজ্ঞরা জানান, গরু কেনার সময় দেখতে হবে গরুটি চঞ্চল কি না, ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারছে কি না। আর অসুস্থ গরু চেনার লক্ষণ জানালেন এভাবে, সুস্থ গরুর নাক-মুখ সব সময় ভেজা থাকবে, সাধারণত গরুর জ্বর বা অন্য কোনো অসুখ হলে নাক ও মুখ শুকনো থাকে।
অনেকে আবার গরুর বুকের মাপের সঙ্গে দৈর্ঘ্য-প্রস্থের মাপ হিসাব-নিকাশ করে গরুর মাংসের আন্দাজ করে ফেলেন। কিন্তু সব সময় এ রকম হিসাব না করা টাই ভালো। বিভিন্ন জাতের গরুর আকৃতি বিভিন্ন রকম। তাই এই হিসাব মেলাতে হলে অবশ্যই গরুর জাত চেনা থাকতে হবে ভালোভাবে। কারণ, শাহিওয়াল জাতের গরু আর হরিয়ানা গরু যেমন এক নয়, ঠিক তেমনি জারসি গরু আর আমাদের দেশি গরুর আকারেও রয়েছে পার্থক্য।
গরু কিনতে গিয়ে অনেকে গরুর চামড়া টানেন, গরুর পিঠে আঙুল দিয়ে গুঁতো দিয়ে গরুটি মাংসল হবে কি না বলে দিতে পারেন অনায়াসেই। যাঁরা এত দিন গরুর হাটে এই কর্মটি দেখে এসেছেন, নিজেও হয়তো বুঝে আর না বুঝে গরুর পিঠে দু-একটি হাতের চাপড় দিয়েছেন। এ ব্যাপারে একাধিক গরু ব্যাপারির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যে গরুর চামড়া মোটা তার মাংস কম হয়, আর যে গরুর চামড়া পাতলা তার মাংস অপেক্ষাকৃত বেশি হয়। তবে কোন গরুর মাংস কয় কেজি হবে, এ বিষয়ে গরুর কসাইয়েরা কিন্তু ঝানু লোক। আপনারা প্রয়োজনে তাদের সাহায্যও নিতে পারেন।

আরও পড়ুন

Advertisement (Adsense)