ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দেশি গরু চেনার খুব সহজ উপায়

বিবিধ ডেস্ক
 দেশি গরু চেনার খুব সহজ উপায়
Advertisement (Adsense)

কোরবানিতে দেশি গরুর চাহিদা বেশি। অনেকে পশুর হাটে তন্ন তন্ন করে দেশি গরু খোঁজেন। দেশি গরু ভেবে বিদেশি গরু কিনে অনেকে প্রতারিতও হন। এজন্য ক্রেতাদের দেশি গরু চেনার যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু কিভাবে চিনবেন দেশি গরু; এটা নিয়ে মানুষের কৌতুহলের শেষ নেই।

পশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশি পশুর মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এরা ছোট ও মাঝারি আকৃতির। এছাড়া বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেশি পশু এক রঙের হয়। এদের পা চিকন ও শিং বড় হয়। এসবের বাইরেও পশু বিষয়ে অভিজ্ঞদের মতামত নিয়ে কোরবানি দেয়ার জন্য দেশি গরু কেনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীতে এবার ২২টি অস্থায়ী কোরবানি পশুর হাট বসছে। এর বাইরে গাবতলী স্থায়ী পশুর হাটের কলেবর বাড়বে। পশু ব্যবসায়ীদের মতে, অস্থায়ী হাটগুলোতে বেশিরভাগ দেশি গরু আসে। আর গাবতলী হাটে বিদেশি গরুর আধিক্য থাকে বেশি। এজন্য দেশি গরু যারা কিনতে চান, অস্থায়ী হাট থেকে কিনলে তাদের প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। দেশি গরুর মাংসের স্বাদও বিদেশি গরুর চেয়ে ভালো।

বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মোর্তুজা মন্টু বলেন, দেশি গরু চেনা খুব সহজ। আকার-আকৃতি বিদেশি গরুর তুলনায় অনেক ছোট। বিশাল আকৃতির গরুগুলো সাধারণত বিদেশি। গরুগুলোর শিং ছোট হয়। অন্যদিকে দেশি গরুর শিং বড় আর পায়ের দিকে মাংস কম থাকে। পা চিকন হয়।

পশু বিশেষজ্ঞ রবিউল আলম বলেন, দেশি গরুর আকার-আকৃতি ছোট। কলকাতা, আসাম, ত্রিপুরা এলাকার গরুও একই আকৃতির। এসব পশুর মাংসের স্বাদও একই ধরনের। এ কারণে এসব এলাকার গরু ও দেশি গরু আলাদা করা সম্ভব হয় না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. আজমত আলী বলেন, দেশি গরুর আকার-আকৃতি ছোট ও মাঝারি ধরনের হয়। পা চিকন হয়, শিং লম্বা হয়, গরুগুলোর রং একই ধরনের হয়ে থাকে। আর দেশি গরু জবাইয়ের পর চর্বির রং হয় হলুদ, বিদেশি জাতের গরুর চর্বির রং সাদা।

রাজধানীতে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে : এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ১৩ অস্থায়ী কোরবানি পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এবার ৯টি অস্থায়ী কোরবানি পশুর হাট বসাচ্ছে। এসব হাটে বাঁশ-খুঁটি গেঁড়ে গরু রাখার শেড নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ প্রায় শেষের দিকে।

সরেজমিন দেখা যায়, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা হাটে বাঁশ-খুঁটি স্থাপন করে শেড তৈরির কার্যক্রম প্রায় শেষ হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য একটি পুলিশ বুথও বসানো হয়েছে। অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। আজ ও আগামীকালের মধ্যে এ হাটের সার্বিক প্রস্তুতি শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। রাজধানীর অন্য অস্থায়ী হাটগুলোতেও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শেষপর্যায়ে বলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়। বসিলা পশুর হাটে কথা হয় হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আবদুল মালেকের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ডিএনসিসির বেঁধে দেয়া সময়সীমা ও নিয়ম অনুসরণ করে হাট বসানোর কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তারা।

রাজধানীর ২৩ পশুর হাট : ডিএনসিসি এলাকার হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে- গাবতলী পশুর হাট (স্থায়ী), উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ১ম গোল চত্বরসংলগ্ন খালি জায়গা, ভাটারা (সাঈদনগর) পশুর হাট, বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিংয়ের (আফতাবনগর) পূর্বাংশের খালি জায়গা, মোহাম্মদপুর বসিলা বুদ্ধিজীবী সড়কসংলগ্ন পুলিশ লাইনের খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন-৬ ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গা, মিরপুর ডিওএইচএস সংলগ্ন সেতু প্রোপার্টিজ সংলগ্ন ফাঁকা জায়গা, খিলক্ষেত ৩০০ ফুট সড়ক ও দক্ষিণ পাশের বসুন্ধরার প্রাচীরের মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা, খিলক্ষেত বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গা, আশিয়ান সিটি হাউজিং পশুর হাট।

ডিএসসিসি এলাকার হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে- খিলগাঁও মেরাদিয়া বাজার, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারসংলগ্ন মৈত্রী সংঘের মাঠ, গোপীবাগ ব্রাদার্স ইউনিয়নসংলগ্ন বালুর মাঠ, কমলাপুর স্টেডিয়ামের আশপাশের খালি জায়গা, জিগাতলা হাজারীবাগ মাঠ, লালবাগের রহমতগঞ্জ মাঠ, কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় হতে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধসংলগ্ন খালি জায়গা, আরমানিটোলা খেলার মাঠ ও আশপাশের খালি জায়গা, পুরান ঢাকার ধূপখোলা ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব মাঠ, পোস্তগোলা শ্মশান ঘাটসংলগ্ন খালি জায়গা, দনিয়া কলেজ মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, শ্যামপুর বালুর মাঠ ও সাদেক হোসেন খোকা মাঠসংলগ্ন ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল ও সংলগ্ন খালি জায়গা।

সূত্র : যুগান্তর

আরও পড়ুন

Advertisement (Adsense)