ঢাকা, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

যে কথা গুলো বাঙালি মেয়েরা খুব বেশি ব্যবহার করে !!!

বিবিধ ডেস্ক
যে কথা গুলো বাঙালি মেয়েরা খুব বেশি ব্যবহার করে !!!
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement (Adsense)

একদিকে যেমন উঠে এসেছে ‘মেয়েলি’ স্ল্যাং-এর প্রসঙ্গ, তেমনই অন্যদিকে সন্ধান পাওয়া গিয়েছে এমন কিছু এক্সপ্রেশন-এর, যা স্ল্যাং নয়, কিন্তু মেয়েমহল ছাড়া এর প্রয়োগও তেমন একটা দেখা যায় না।

প্রত্যেক ভাষাগোষ্ঠীরই মেয়েদের আলাদা এবং নিজস্ব ভাষা রয়েছে। মেনস্ট্রিম ভাষা থেকে তা বেশ খানিকটা দূরে। পুরুষের পৃথিবী তাকে তেমন চেনে না। মেয়েদের এই নিজস্ব ভাষা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে, হয়ে চলেছে। বাংলা ভাষার এই দিকটি নিয়েও কাজ হয়েছে বেশ কিছু। তাতে একদিকে যেমন উঠে এসেছে ‘মেয়েলি’ স্ল্যাং-এর প্রসঙ্গ, তেমনই অন্যদিকে সন্ধান পাওয়া গিয়েছে এমন কিছু এক্সপ্রেশন-এর, যা স্ল্যাং নয়, কিন্তু মেয়েমহল ছাড়া এর প্রয়োগও তেমন একটা দেখা যায় না। এই লেখায় তেমন কিছু এক্সপ্রেশন-এরই সন্ধান করা হল।

নীচের কথা ক’টিকে লক্ষ করুন। ভেবে দেখুন এগুলি কদাচ কোনও পুরুষের মুখে শুনেছেন কি না।

• ‘মরণ’— রবীন্দ্রনাথের ‘শাস্তি’ গল্পের অন্তিমে ফাঁসির আসামী চন্দরা বলেছিল। সেই উচ্চারণে যে বিষাদ আর তাচ্ছিল্যের মিশ্রণ ছিল, তেমনটা আর পাওয়া যায়নি বটে, কিন্তু বার বার এই তিন অক্ষরের শব্দটি এমন এমন মোক্ষম জায়গায় ব্যবহৃত হয়েছে যে, তার সাবস্টিটিউট পাওয়া দুষ্কর।  আর যত চেষ্টাই করুন না কেন, এর সঠিক অ্যাকসেন্ট পুরুষরা কিছুতেই আনতে পারবেন না।

• ‘ন্যাকা’— ঈষৎ নাক বেঁকিয়ে বলতে হয়। পুং-পৃথিবীর পক্ষে সেই নাক বেঁকানোর বিশেষ ভঙ্গিমাটা রপ্ত করাই অসম্ভব।

• ‘ও না দারুণ হিংসুটি’— ‘হিংসুটে’ বললেই মাটি। এই ট-এ ই-কারের উপেরই দাঁড়িয়ে রয়েছে এর সৌন্দর্য্য। উচ্চারণের সময়ে খানিকটা গাল ফুলবে, নীচের ঠোঁট খানিকটা শ্লথ হয়ে যাবে। উচ্চারণের পরে একটু ঝোলও টেনে নিতে হবে।

‘ঢং’— বানানে দেখতে লাগে ঘণ্টাধ্বনির মতো। কিন্তু বাঙালি মেয়ের মুখে তার চাইতে ঢের মধুর। ‘ঢ’-এর পরে একটা অ-কারান্ত টান থাকবে। ‌অনুস্বরের জায়গাটা রণিত হবে সামান্য। উচ্চারণের সময়ে হয় চোখ সরু হয়ে যাবে, নয়তো গোল্লা হবে। কখনওই স্বাভাবিক থাকবে না।

• ‘আদিখ্যেতা’—  ‘আধিক্য’ থেকে জাত। কিন্তু বাংলা মেয়েলি পরিভাষায় এর ব্যঞ্জনাই আলাদা। পুরুষের অভিধানেই শব্দটা সেভাবে নেই। থাকলেও তার উচ্চারণ পদ্ধতি একেবারেই ডিফারেন্ট।

• ‘অসভ্য’— পুং-অভিধানে এর যা ব্যঞ্জনা, নারীর নোটবুকে তা একেবারেই ভেন্ন। তবে এর মানে আবার স্থান-কাল পাত্র ভেদে বদলায়। সোচ্চারে ‘দিদির ছেলেটা কী অসভ্য’ আর ফিসফিসিয়ে ‘অ্যাই, এখানে কোনো অসভ্যতা কোরো না’ — এ দু’য়ের ফারাক বাংলাভাষীদের আলাদা করে বোঝানোর কিছুই নেই। আর অন্ধকারে নীরবতার একডিগ্রি উপরে ‘অসভ্য’ শব্দটির যে মাহাত্ম্য, তা যিনি শুনেছেন, তিনিই জানেন।

আরও পড়ুন

Advertisement (Adsense)