ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

যারা অতিরিক্ত লবন খান তাদের জন্য সাতটি সতর্কতা

স্বাস্থ্য ডেস্ক
যারা অতিরিক্ত লবন খান তাদের জন্য সাতটি সতর্কতা
সংগৃহীত : ছবি
Advertisement (Adsense)

লবণ আমাদের খাবারের এতই অপরিহার্য একটি অংশ যে একে নিয়ে রুপকথাও আছে, ‘লবণের মতো ভালোবাসা’। কারণ লবণ ছাড়া যে কোনো খাবার বিস্বাদ। এমনকি মিষ্টি খাবারেও এক চিমটি লবণ না দিলে ভালো লাগে না অনেকের কাছে। কিন্তু আপনি বেশি লবণ খেয়ে ফেলছেন না তো? যারা বাইরে খাওয়াদাওয়া করেন বেশি, তাদের কিন্তু লবণ বেশি খাওয়া হয়ে যায়। বাড়িতে রান্না করা খাবারের তুলনায় রেস্টুরেন্টের দামি খাবার ও ফাস্টফুডে অনেক বেশি পরিমাণে লবণ থাকে।  

কতটুকু লবণ আসলে খাওয়া উচিত? ১,৩০০ মিলিগ্রামের বেশি লবণ আপনার জন্য অপ্রয়োজনীয়।  লবণে থাকা সোডিয়াম শরীরের পেশী সচল রাখার জন্য, স্নায়ু সচল রাখার জন্য ও শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য জরুরী। কিন্তু এর জন্য ১,৩০০ মিলিগ্রামের বেশি লবণ খাওয়া যাবে না।

কিছু কিছু জাতির মানুষের জন্য লবণ আরও কম খাওয়া উচিত।  ২০১৭ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ ও এশিয়দের লবণ কম খাওয়া উচিত। কারণ জেনেটিক কারণেই লবণ এশিয় ও কৃষ্ণাঙ্গদের বেশি ক্ষতি করে।

কিছু স্বাস্থ্যকর খাবারেও অতিরিক্ত লবণ থাকতে পারে। বিশেষ করে প্যাকেটজাত খাবারে। এ কারণে একদম টাটকা শাক-সবজি, মাছ-মাংস খাওয়ার চেষ্টা করুন। প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার কম খান।

জেনে নিন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি লবণ খাওয়ার ভয়াবহ সব প্রভাব-

উচ্চ রক্তচাপ :

আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া। আপনি যদি ভাতের পাতে অতিরিক্ত লবণ খান, বা লবণে মাখানো চিপস খান নিয়মিত, তাহলে এই অভ্যাসটি নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবুন। অতিরিক্ত লবণ কারও জন্যই ভালো নয়। কিন্তু যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাদের জন্য এই লবণ একেবারে বিষের মতো ক্ষতিকর।  এতে বাড়ে তাদের হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি।

ওজন :

ওজন বাড়াতে শুধু চিনি নয়, লবণও ভূমিকা পালন করে। ২০১৫ সালে লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির গবেষণায় দেখা যায়, ওবেসিটি বা অতিরিক্ত স্থুলতার সাথে সোডিয়ামের সম্পর্ক আছে।  দেখা যায়, ক্যালোরি কম খাওয়া হলেও লবণ বেশি খাওয়ার কারণে ওজন বাড়তে পারে।

কিডনিতে পাথর :

কিডনিতে পাথর হবার ঝুঁকি বাড়ায় লবণ! এর পেছনে ঠিক কারণটা জানা যায়না। তবে সোডিয়াম শরীর থেকে বের হবার সময় ক্যালসিয়াম সাথে করে নিয়ে যায়। এই ক্যালসিয়াম জমে ক্রিস্টাল হয়ে কিডনি স্টোন তৈরি করে।

ঘুমের সমস্যা :

ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে লবণ অতিরিক্ত খাওয়া। কারণ বেশি লবণ খেলে ঘুমের মাঝে বারবার বাথরুমে ছুটতে হবে।  এতে ঘুম নষ্ট হয়।

সল্ট-সেনসিটিভিটি :

আপনি যদি ‘সল্ট-সেনসিটিভ’ ধরণের মানুষ হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য অতিরিক্ত লবণ বেশি ক্ষতিকর। প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষের শরীর অতিরিক্ত লবণ বের করে দিতে তেমন পারদর্শী নয়।  আপনি যদি বেশি লবণ দেওয়া খাবার খাওয়ার পর অনুভব করেন যে আপনার পেট ফেঁপে গেছে, তাহলে আপনিও এ শ্রেণীর মানুষ হতে পারে।  যাদের পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস আছে, তাদের সল্ট-সেনসিটিভিটি দেখা দেয় বেশি।

ডায়াবেটিস :

তিন ধরণের মানুষের জন্য সোডিয়াম বেশি ক্ষতিকর। যদি আপনার বয়স ৫০ এর বেশি হয়, আপনি যদি অতিরিক্ত ওজনের হন, এবং আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে।  বয়সের সাথে সাথে শরীর লবণের বিষয়ে স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে। এ বয়সে যাদের ওজন বেশি বা ডায়াবেটিস আছে, তারা লবণ বেশি খেলে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

ক্যান্সার​ :

ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার রিসার্চ ফান্ডের গবেষণায় অনুযায়ী, লবণ কম খেলে অনেকেরই পাকস্থলীর ক্যান্সার এড়ানো সম্ভব।

লবণ খাওয়া কমানো উচিত সত্যি, কিন্তু অনেকের জন্যই এটা কঠিন। কারণ চিনির প্রতি যেমন আসক্তি তৈরি হয়, লবণের প্রতিও তেমন আসক্তি তৈরি হতে পারে।  লবণ খাওয়া কমিয়ে দিলে তখন খাবার বিস্বাদ লাগতে পারে।  তবে ছয় সপ্তাহ ধৈর্য ধরে লবণ কম খেলে আপনার অভ্যাস হয়ে যাবে।  এছাড়া শিশুদের খাবারেও লবণ কম দেওয়ার অভ্যাস করুন। বেশি করে খান পটাসিয়ামযুক্ত খাবার যেমন কলা, দই ও পালং শাক।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

আরও পড়ুন

Advertisement (Adsense)