ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সিজার করবেন ? সিজার মানে নীরব মৃত্যু

স্বাস্থ্য ডেস্ক
সিজার করবেন ? সিজার মানে নীরব মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement (Adsense)

এক নার্স (সেবীকা)হলি ক্রস মেডিক্যালএর চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন ! গত মাসে তার ফুটফুটে পুত্র সন্তান হয় । আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম সিজারে অনেক বাচ্চা ই তো পৃথিবীতে নিয়ে আসলি অপারেশন করে , এখন তোর সিজার কোন চিকিৎসক করবে ?

উত্তরে জানায় ,নরমাল ডেলিভারি ‘র জন্য প্রিপারেসন নেওয়া হয়েছে । কারন ! সিজারে বাচ্চা হলে একজন নারী ২য় ,৩য় বার পুনরায় মা হতে গেলে ঝুকি থাকে ৯০.৭ % । অনেক সময়েই বাচ্চার শরীর ছুরি , কাচি লেগে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতি হয় যা আমাদের দেশের চিকিৎসক গন কাউকেই বলেন না ! অর্থের লোভে প্রত্যেক গর্ভবতী মা কে মেডিক্যাল চেকাপ এর আগে থেকে ই বলে রাখা হয় সিজারে বাচ্চা নিতে হবে অন্যথায় ! মৃত্যু ঝুঁকির ভয় দেখানো হয় । জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিসয়ক সংস্থা WHO জানিয়েছে একটি দেশে ‘র ১৫% মেয়ে যদি একান্তে ই না পারে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া তে বাচ্চা নিতে , সে ক্ষেত্রে সিজার করাতে হবে । আমার দেশে বর্তমান সিজারে বাচ্চা হচ্ছে সে অনুপাতে ৯৭.৩% যা নারী স্বাস্থ্য’র জন্য ঝুঁকিপূর্ণ । এই সিজারে বাচ্চা নিতে গেলে যেমন মা মারা যায় বেশীরভাগ সময় তেমনি ক্ষতি হয় নব জন্ম নেওয়া শিশুটির । সিজারে হওয়া বাচ্চা অনেক বেশী অসুস্থ থাকে একটু খেয়াল করে দেখবেন, যা নরমালে হওয়া বাচ্চাদের হয় না খুব একটা । প্রতি বছর সিজারে বাচ্চা হতে গিয়ে মারা যায় আমাদের দেশে ২৭.৯% মা ,শিশু । এই ছারাও সিজার অপারেশনে রোগীর জন্য রক্ত চাওয়া হয় অনেক সময় ই ১০-১৫ ব্যাগ , যার মধ্যে বড় জোর ২ ব্যাগ রক্ত কাজে লাগিয়ে অন্যগুলো বিক্রি করা হয় । সামাজিক স্ট্যাটাস হয়ে গেছে এখন সিজারে বাচ্চা নেওয়া ! যা বর্তমান নারী দেহ কে ধ্বংস করে দিচ্ছে নীরবে,চিকিৎসকরা সবই জানেন , বুঝেন কিন্তু হাঁসপাতালের মালিক দের খুশী রাখতে এবং নিজেদের অর্থনীতি কে শক্তিশালী করতে তারা করেন নারীর পেট কাঁটা বিজনেস । সিরিয়ার ৪০০০ শরণার্থীকে খাবার খাইয়ে বিয়ের দিন কাটালেন এই দম্পতি

সিরিয়ার সীমান্তের কাছে তুরস্কের কিলিস রাজ্যের এক দম্পতি সম্প্রতি বিয়ে করেন, কিন্তু অন্যসব বিয়ের মত সাধারণ কোন বিয়ে এটা না! অতিথি ছিলেন সিরিয়ার ৪০০০ শরণার্থী! বিয়ের আগেই তারা সীদ্ধান্ত নেয় আলাদা কিছু করার। তাই তারা ৪০০০ গৃহহীন মানুষকে নিজেদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আমন্ত্রণ জানায়। ফেতুল্লা এবং ইসরা পলাত গত সপ্তাহে বিয়ে করেন, এবং বিয়ের অনুষ্ঠান হয় তুরস্ক এবং সিরিয়া সীমান্তের খুব কাছে। তুরস্কে ২০ লক্ষের অধিক সিরিয়ার শরণার্থী আছে এবং কিলিস রাজ্যেই আছে প্রায় ৪০০০ এর মত। কিমসে ইয়ক মু (Kimse Yok Mu), যার অর্থ কেউ কি আছো!, নামের এক দাতব্য সংস্থা এখানে শরণার্থীদের খাবার সহ অন্যান্য সুবিধা প্রদান করে যাচ্ছে।

এই দুখী মানুষগুলোর সাথে বিশেষ দিন উদযাপন করার বুদ্ধিটা আসলে বরের বাবা আলির। তিনি আশা করেন বাকিরাও এমন ভাবে এই দুখী মানুষগুলোর পাশে এসে একদিনের জন্যে হলেও দাঁড়াবে। ‘আমরা চিন্তা করলাম কেন আমরা আমাদের এই আনন্দের দিনটাতে সিরিয়ার ভাই বোনদের পাশে দাড়াচ্ছি না! তাই আমরা কিমসে ইয়ক মু এর সাথে যোগাযোগ করি যারা আমাদের একটা খাবার বহন করার গাড়ী দিতে পারবে। এর মাধ্যেমেই আমরা খাবার নিয়ে সিরিয়ার ভাই বোনদের কাছে পৌছে যাই। এটা আমাদের জীবনের সেরা একটা দিন ছিলো!’ বরের বাবা আরো বলেন, ‘আমি খুশি কারণ আমার সন্তানেরা নতুন জীবনটা এমন নিঃস্বার্থভাবে শুরু করেছে। তারা নিজ হাতে মানুষের প্লেটে খাবার তুলে দিয়েছে যা দেখতে অনেক ভালই লাগছিলো।’

কিমসে ইয়ক মু এর এক প্রতিনিধি বলেন এই দম্পতি পরিবার থেকে পাওয়া টাকা শহরের আশেপাশে থাকা শরনার্থীদের জন্য খরচ করেছে। ইসরাত বলেন, ‘এই দিনটা পেয়ে আমি নিজেকে সত্যিকার অর্থে ভাগ্যবান মনে করছি। ফেতুল্লা যখন আমাকে এসে এই পরিকল্পনার কথা বলে আমি অবাক হয়ে যাই, সে এক নিমিষে আমার সবকিছু জয় করে নিয়েছে! যাদের আসলেই সাহায্য দরকার তাদের পাশে দাঁড়ানোর মত সৌভাগ্যের আর কিছু হয় না!’ বর ফেতুল্লা বলেন, ‘বাবা যখন আমাকে আমার বিয়ের দিনটা এভাবে উদযাপন করতে বলেন আমি সত্যিই অভিভূত হই। আমি তার ইচ্ছা পুরণে সাথে সাথেই রাজি হই। দুখী মানুষের সাথে নিজের খাবার ভাগ করে নেয়ার মত আনন্দের আর কি হতে পারে?’ ফেতুল্লার বন্ধুরাও এই কাজে খুবই অনুপ্রাণিত। তারা প্রতিজ্ঞা করেন নিজেদের যেকোন বড় অনুষ্ঠান তারা এভাবেই উদযাপন করবে।

আরও পড়ুন

Advertisement (Adsense)