ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বুঝবেন কিভাবে আপনার শিশুর নিউমোনিয়া হলে?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
বুঝবেন কিভাবে আপনার শিশুর নিউমোনিয়া হলে?
সংগৃহীত : ছবি
Advertisement (Adsense)

নিউমোনিয়া সাধারণত বাচ্চাদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং এটা কোনও কোনও ক্ষেত্রে জীবনের জন্য ঝুকিপূর্ণও হতে পারে৷ তাই শিশুর নিউমোনিয়া হলে কখনোই তা অবহেলা করা উচিত নয়৷

শিশুর নিউমোনিয়ার লক্ষণ

প্রথমে দেখুন শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি অর্থাৎ মিনিটে বুক কয়বার ওঠানামা করছে৷ বয়স অনুসারে এই গতি বেশি-কম হতে পারে৷ দু মাস বয়সের নিচে যাদের বয়স তাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি মিনিটে ৬০ বার বা তার বেশি, দু মাস থেকে ১২ মাস পর্যন্ত শিশুদের ৫০ বার বা তার বেশি এবং ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ৪০ বার বা তার বেশি হলে আমরা বলি শিশু দ্রুত নিঃশ্বাস নিচ্ছে৷
তারপর দেখুন বুকের নিচের অংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে ডেবে যাচ্ছে কিনা বা ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে কিনা৷ কাশি বা ঠান্ডার সঙ্গে যদি বুক দেবে যায় এবং শিশু দ্রুত নিঃশ্বাস নেয় তাহলে ধরে নিতে হবে শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত৷ নিউমোনিয়া হলে সঙ্গে সঙ্গে  ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন৷ কারণ আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের মৃত্যুর প্রথম কারণ হলো নিউমোনিয়া৷

করণীয় কী

শিশুর নাক বন্ধ থাকলে নরম কাপড় বা কটনবাড দিয়ে নাক পরিস্কার করে দিন৷ প্রয়োজনে নরসল ড্রপ বা  লবণ-পানির মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন৷
শিশুর কাশি থাকলে পানি জাতীয় খাবার বেশি করে খেতে দিন৷ স্বাভাবিক খাবারও দিন৷ একেবারে খেতে না পারলে অল্প অল্প করে বারবার দিন৷ শিশু বুকের দুধ খেলে বারবার বুকের দুধ দিন৷ মায়ের খাবারের সঙ্গে শিশুর ঠান্ডা লাগা বা নিউমোনিয়ায় কোনও সম্পর্ক নেই৷ তাই মাকে সব খাবার খেতে দিন৷ এ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কথাকুন৷

একটা কথা অবশ্যই মনে রাখবেন অযথা শিশুর ঠান্ডা বা কাশিতে এ্যান্টিবায়োটিকের কোনও প্রয়োজন নেই৷ এ্যান্টিবায়োটিক শিশুর নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করে না, বরং শিশুর ক্ষতির কারণ হতে পারে৷ নিউমোনিয়া হলেই কেবল এ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে৷ বারবার ব্যবহারে শিশুর শরীরে এ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়৷ শিশুর ঠান্ডা লাগলে নিউমোনিয়া হবে মনে করে বারবার এ্যান্টিবায়োটিক দিলে যখন আসলেই নিউমোনিয়া হবে তখন আর এ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে না৷

আরও পড়ুন

Advertisement (Adsense)