ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মস্তিষ্কে মরিচা পরলেই বিপদ!!!

স্বাস্থ্য ডেস্ক
মস্তিষ্কে মরিচা পরলেই বিপদ!!!
সংগৃহীত : ছবি
Advertisement (Adsense)

স্মৃতিভ্রম বর্তমান সময়ের একটি অন্যতম বৈশ্বিক সমস্যা। মন-মস্তিষ্ককে কাজের মধ্যে ব্যতিব্যস্ত রেখে চিন্তাশক্তির অধিক চর্চার মাধ্যমে এই ব্যাধি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

আলঝেইমার সোসাইটি অব বাংলাদেশের ২০১৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বে স্মৃতিভ্রম সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা সাড়ে চার কোটির কাছাকাছি। আর বাংলাদেশে এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৬০ হাজার। আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ শতাংশ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের বাসিন্দা।

পরিসংখ্যান মতে, বিশ্বে প্রতি ৩ সেকেন্ডে একজন করে মানুষ নতুনভাবে ডিমেনসিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমান ধারা চলতে থাকলে ২০৩০ সালে বাংলাদেশে ডিমেনসিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮ লক্ষ ৩৪ হাজার এবং বিশ্বে ৭ কোটি ৬০ লক্ষে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে, চিকিত্সা ব্যবস্থার উন্নতির কারণে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে।এর ফলে বয়স্ক লোকের সংখ্যাও বেড়েছে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মস্তিষ্ক-শক্তি হ্রাস পেতে শুরু করে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় মেমোরি সেন্টারও। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মস্তিষ্ক-শক্তির সঙ্গে স্মৃতিশক্তির একটি ওতপ্রোত সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে আলঝেইমার বা স্মৃতিভ্রম রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গুরুতর মানসিক এই রোগে স্মৃতিশক্তি লোপ পাইবার পাশাপাশি ব্যক্তির আচার-আচরণ, আবেগ-অনুভূতি, চিন্তাভাবনা ও বিচার-বিশ্লেষণেও আমূল পরিবর্তন ঘটে।

গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে, মানবদেহের স্নায়ু কোষসমূহ প্রায় ১১০ হতে ১২০ বত্সর অবধি সজীব ও সক্ষম থাকবার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু নানা কারণে খুব কম সংখ্যক স্নায়ুকোষ এতদিন টিকে থাকতে সক্ষম হয়। এর একটি কারণ হিসাবে আবিষ্কার হয়েছে ফ্রি রেডিক্যালস-এর প্রভাব।

brain-alzheimer ফ্রি রেডিক্যালস মানবদেহের স্নায়ুকোষের পুরো আয়ুষ্কাল নষ্ট করে দেয়। ফলে মস্তিষ্কের নানা কাজে বিপত্তি ঘটে। বার্ধক্যও ধেয়ে আসে দ্রুত। ফ্রি রেডিক্যালস থেকে মস্তিষ্ককে মুক্ত রাখার উপায় খোঁজার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আমরা যদি মস্তিষ্কের বয়োবৃদ্ধির প্রক্রিয়ার গতি কমাতে পারি তাহলে স্মরণশক্তিও অটুট থাকতে পারে। যদিও মস্তিষ্ক বুড়িয়ে যাবার গতিতে লাগাম টানা সহজ কাজ নয়। এক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের বিকল্প অভিমত হল, যদি মস্তিষ্ককে অ্যাকটিভ বা কর্মক্ষম রাখা সম্ভবপর হয়, তবে আলঝেইমারের সমস্যা কখনই প্রকট আকার ধারণ করতে পারবে না।

প্রকৃতপক্ষে, যে ব্যক্তি যত বেশি স্ট্যাডি করবে অথবা কাজের মধ্যে থেকে চিন্তাশক্তির অধিক চর্চা করবে তার স্মৃতিভ্রম সমস্যা ততটা কম হবে। গবেষণায় জানা গেছে, যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কম অথবা কর্মক্ষেত্রে বুদ্ধি ও চিন্তাচর্চার দরকার হয় কম, তাহাদের আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ বেশি।

অতএব, মস্তিষ্ককে সবসময় সক্রিয় রেখে তাকে মরিচা পড়ার হাত থেকে তথা আলঝেইমার ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখা সম্ভব।

[সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক]

আরও পড়ুন

Advertisement (Adsense)