ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আবিস্কার হলো চিকিৎসা বিজ্ঞানে "হার্টের যত্ন ও রোগ "

অনলাইন ডেস্ক
আবিস্কার হলো চিকিৎসা বিজ্ঞানে
Advertisement (Adsense)

একজন আমেরিকান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কিছু টিপস অনুবাদ করে দেয়া হলো পাঠকদের জন্য।


যুক্তরাষ্ট্রে গত ২০ বছর ধরে আমি একজন কারডিওলজিস্ট হিসেবে অনুশীলনরত। তাই আমার মনে হলো হৃদরোগের মতো জটিল একটি রোগের ব্যাপারে আমার এত বছরে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করলে হয়তো অনেকেই উপকৃত হবেন।

আমাদের অনেকেই অনেক ভিত্তিহীন ধ্যানধারণা নিয়ে জীবন কাটাই । এগুলো যুগের পর যুগ ধরে আমাদের মধ্যে স্থায়ী আসন গেঁড়ে বসে গেছে। এদের মধ্যে কোনো কোনোটিকে আমি মারাত্মক বিপজ্জনক বলে মনে করি। অন্ধবিশ্বাস নয়, আমাদের জীবন পরিচালিত হওয়া উচিৎ বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে। আশা করি পুরো লেখাটি পড়বেন এবং নিজের জীবনে এই জ্ঞানের প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করবেন, পাশাপাশি অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবেন। আমি চেষ্টা করব সবকিছু সহজে বলার জন্য।

সবার আগে আপনই এতদিন যা জানতেন সব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। আপনি হয়তো জানেন অমুক জিনিস হার্ট এর জন্য ভালো, তমুক জিনিস খারাপ, এসব জ্ঞানকে ফেলে দিয়ে মাথা হালকা করে বসুন। এখন আসি কাজের কথায়।

সুস্থ হার্ট এর জন্য আপনার যা যা করতে হবে-

১। রক্তচাপ রাখতে হবে নিয়ন্ত্রিত। (১৩০/৮০ এর কম) । ( রক্তচাপ মাপার ভালো মেশিন ব্যবহার করুন। সেটি যেন কবজিতে নয়, বাহুতে বাধা হয় সেটি খেয়াল রাখুন, সপ্তাহে একদিন অন্তত রক্তচাপ মাপুন।)

২। রক্তে কোলেস্টেরল যাতে থাকে সামান্য এবং নিয়ন্ত্রিত। ( প্রতি ডেসিলিটারে ৭০ মিলিগ্রাম এর কম) । ট্রাইগ্লিসারাইড এর পরিমাপ হওয়া উচিৎ সর্বাধিক ১৫০ মিগ্রা/ডেসি ,বা তার কম। (ফাস্টিং লিপিড প্রোফাইল নামের রক্ত পরীক্ষাটি করিয়ে ফেলুন)।

৩। রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা রাখতে হবে স্বাভাবিক। (এইচবিএ১সি এর মাত্রা থাকতে হবে ৫-৫ এর কম, এইচবিএ১সি একটি ব্লাড টেস্ট)

৪। নিয়মিত তামাক বা তামাকজাত পণ্য ব্যবহার বন্ধ করুন। (সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল ইত্যাদি) এগুলো একেবারে বাদ দিতে পারলেই ভাল হয়।

৫। আপনার ওজন যেন হয় উচ্চতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। (৫ফুট উচ্চতার জন্য ৪৫ কেজি ওজন যথেষ্ট , পরবর্তী প্রতি ইঞ্চি উচ্চতা বৃদ্ধিতে ৩ কেজি ওজন বৃদ্ধি কাম্য। এর বেশি নয়।)

সঠিক ওজন পেতে কি করবেন? একটাই সহজ উপায় - যখন খিদে লাগবে তখনই কেবল খান, অপ্রয়োজনীয় কোন নাশতা কড়তে যাবেন না। ভাত , রুটি , আলু , মিষ্টি এসব শর্করা জাতীয় খাবার খাবেন কম, যতটুকু পারা যায়। প্রতিদিন অল্প কিছু শাকসবজি , ফলমূল , ডিম , মাছ , মাংস খান।

৬। ব্যায়াম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ৪৫ থেকে ৫০ মিনিট ঘাম ঝড়ান। হাঁটার অভ্যেস গড়ে তুলুন। প্রতিদিন দিনের বিভিন্ন সময়ে মোট ৫০-১০০টি পুষ আপ বা সিট আপ দেয়ার অভ্যেস করুন।

৭। ৪০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ এবং ৫০ এর অধিক বয়সী নারীদের প্রতিদিন রাতে খাওয়ার পর অ্যাসপিরিন ৭৫ বা ৮১ মিগ্রা এর একটি ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ থাকলো।

১, ২ ও ৩ নম্বরে বর্ণিত সমস্যাগুলো সমাধানের ক্ষেত্রে আপনার ওজন ও খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা থাকতে পারে। যদি রক্তচাপ , কোলেস্টেরল ও গ্লুকোজের মাত্রা প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী স্বাভাবিক থাকে , তবে ডায়েটের প্রয়োজন নেই।

১,২,৩ নম্বরে বর্ণিত পয়েন্টগুলোকে খুবই গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। যে করেই হোক, এই ব্যাপারগুলো স্বাভাবিক রাখতে হবে, প্রয়োজনে ওষুধ নিতে হবে। অনেকেই ওষুধ নিতে কার্পণ্য করেন। একটা কথা মনে রাখবেন, রক্তচাপ , কোলেস্টেরল ও গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক না থাকা ভয়ানক ব্যাপার, এজন্য ওষুধ নিতে দ্বিধা করা একদমই উচিৎ না। অধিকাংশ ওষুধই বেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে মুক্ত।

কেয়ারলেস হবেন না। কোন সমস্যা হচ্ছে না বলে এড়িয়ে যাবেন না। সিরিয়াসনেস ও সচেতনতার অভাবে প্রতিদিন অনেক প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যকে সবার আগে প্রাধান্য দিন।

আরও পড়ুন

Advertisement (Adsense)