ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শেভ করার পর যে ভুলটি মারাত্মক ক্ষতি করছে আপনার ত্বকের!

স্বাস্থ্য ডেস্ক
শেভ করার পর যে ভুলটি মারাত্মক ক্ষতি করছে আপনার ত্বকের!
সংগৃহীত : ছবি
Advertisement (Adsense)

বাড়িতে বা সেলুনে দাড়ি কাটার পর সুগন্ধি, দামী আফটারশেভ ব্যবহার করেন নিশ্চয়ই! সাবধান, এর ফলে আপনার অজান্তেই মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে আপনার ত্বকের!

আমাদের ব্যবহার করা প্রায় সবকটি আফটার শেভ লোশনেরই মূল উপাদান দু’টি। একটি হল স্পিরিট বা অ্যালকোহল। অপরটি সুগন্ধি। এই স্পিরিট বা অ্যালকোহল কাজ করে অ্যাসট্রিনজেন্ট হিসেবে। দাড়ি কাটার পর এটি ব্যবহার করলে ত্বকে একটা ঠাণ্ডা জ্বলুনির ভাব আসে এবং ত্বক টানটান মনে হয়। এছাড়াও আফটার শেভ লোশনে কড়া সুগন্ধি থাকায় অনেকে এটাকে পারফিউমের বদলে ব্যবহার করে থাকেন। তবে বাণিজ্যিক প্রচারের সময় প্রায় সব আফটার শেভ লোশন নির্মাণকারী সংস্থাই আফটারশেভকে জীবাণুনাশক হিসেবেই ব্যাখ্যা করে থাকেন। কিন্তু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই আফটারশেভ আসলে ত্বকের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই করে বেশি!

একটি মার্কিন গবেষণার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, অ্যালকোহল আসলে আমাদের ত্বক শুষ্ক করে দেয়। এর পাশাপাশি এতে যে সুগন্ধ ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সেটাও ত্বকে জন্য ভাল নয়। বিশেষ করে দাড়ি কাটার পর আমাদের ত্বক থেকে প্রাকৃতিক তেল চলে যায়। এ সময়ে এই আফটারশেভ ব্যবহার আসলে ত্বকের পক্ষে আরও ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অ্যালকোহলের মতো একটি উপাদান ত্বকে ব্যবহারের ফলে ত্বকে কাঁটাছেঁড়া থেকে সংক্রমণ (ইনফেকশন) হবার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়, এ কথা সত্যি। কিন্তু এটাও ঠিক যে এই অ্যালকোহলের ব্যবহারের ফলেই ত্বক অনেকটা শুষ্ক হয়ে যায়।

তাহলে কি আফটারশেভ একেবারেই ব্যবহার করা যাবে না? মার্কিন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর টেরেন্স কিনির মতে, অবশ্যই যাবে। তবে আপনার ত্বক যদি সংবেদনশীল হয়ে থাকে তবে অ্যালকোহল-বেসড আফটারশেভ ব্যবহারে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে তাদের জন্য ডক্টর কিনির পরামর্শ হল, ময়েশ্চারাইজার যুক্ত আফটারশেভ ব্যবহার। ময়েশ্চারাইজার যুক্ত আফটারশেভের ব্যবহারে ত্বকে ঠাণ্ডা জ্বলুনির অনুভুতি আসবে না ঠিকই। কিন্তু শেভ করার সময়ে ত্বক থেকে যে আর্দ্রতাটা চলে যায়, তা আবার ফিরে আসবে। এ ছাড়া এগুলোতেও সুগন্ধি থাকে তাই পারফিউমের প্রয়োজন হবে না।

কিছু কিছু আফটারশেভে এসেনশিয়াল অয়েল-এর ব্যবহার করা হয়। যেমন, টি ট্রি অয়েল। এগুলো অ্যাসট্রিনজেন্ট হিসেবে বিশেষ কার্যকর। এর পাশাপাশি ময়েশ্চারাইজার হিসেবে থাকতে পারে গ্লিসারিন বা অলিভ অয়েল। ত্বককে আরাম দেবার জন্য থাকতে পারে অ্যালোভেরার নির্যাস। আফটারশেভ কেনার সময়ে এসব উপাদান দেখে কেনা জরুরি। উপাদানের মধ্যে বিভিন্ন অ্যালকোহল, আর্টিফিশিয়াল কালার এগুলো থাকতে পারে যা ত্বকের জন্য হতে পারে অস্বস্তিকর। এছাড়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে আফটারশেভে ব্যবহৃত পারফিউমও আপনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই আফটারশেভ বুঝেশুনে কিনুন। এছাড়াও বাড়িতে অ্যালোভেরা জেল বা অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ব্যবহার করে দেখতে পারেন আফটারশেভের বদলে। উপকার পাবেন।

আরও পড়ুন

Advertisement (Adsense)