ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

অস্টিওপরোসিস / হাড় ক্ষয় কী, কেন হয় ?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
 অস্টিওপরোসিস / হাড় ক্ষয় কী, কেন হয় ?
সংগৃহীত : ছবি
Advertisement (Adsense)

হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপরোসিস হাড়ের জটিল একটি সমস্যা। সাধারণত প্রবীণ বয়সে এই সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। অস্টিওপরোসিস কী, কেন হয় এ কথা বলেছেন ডা. মো. ইউসুফ আলী। ডা. মো. ইউসুফ আলী বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থোপেডিক বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : অস্টিওপরোসিস কী?

উত্তর : অস্টিও শব্দের অর্থ হলো হাড় বা বোন। আর পরোসিস হলো ছিদ্র। এই কথাগুলো থেকে অস্ট্রিওপরোসিস শব্দটা এসেছে। আরো সহজভাবে বললে, গ্রামে চাল ধোয়ার জন্য যে ঝাঁঝর থাকে, এর সঙ্গে অস্টিওপরোসিসের কারণে হাড়ের ছিদ্রের তুলনা করা যেতে পারে। এর মানে হলো হাড়ে যখন ছিদ্র ছিদ্র হয়ে যায়, একে আমরা অস্টিওপরোসিস বলি। এই ছিদ্রটি কী ধরনের? চোখে দেখা যায়? আসলে তা নয়। আমরা বোন মাস ডেনসিটি বলে থাকি। হাড়ের যখন ঘনত্ব কমে যায়, তখন একে আমরা অস্টিওপরোসিস বা ভঙ্গুর হাড় বলে থাকি। এটি সহজেই ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। অল্প আঘাতেই হাড় ভেঙে যায়।
আবার যারা বয়স্ক রয়েছে, বাথরুমে যাওয়ার সময় হয়তো পড়ে যায়, তো অল্প আঘাতেই দেখা যায় তার হাড় ভেঙে যায়। একে আমরা টিবিআর ট্রমা বলি।

অস্টিওপরোসিস সাধারণত দুই ধরনের হয়। একটি হলো প্রাইমারি, আরেকটি হলো সেকেন্ডারি। প্রাইমারি প্রবীণদের হয়ে থাকে। এটি সাধারণত প্রবীণ নারীদের হয়ে থাকে। এর আবার টাইপ ওয়ান, টাইপ টু রয়েছে। বয়সজনিত যে সমস্যাটি হয়, একে আমরা সাধারণত প্রাইমারি বলে থাকি। আরেকটি হলো সেকেন্ডারি। অন্য কোনো রোগের কারণে বা অন্য কোনো সমস্যার কারণে, সেটি যেকোনো বয়সে হোক, হতে পারে। যেমন মনে করেন, কারো যদি হাড় ভেঙে যায়, আমরা প্লাস্টার করে থাকি। ওই অংশটা সে নড়াচড়া করবে না। অনেক দিন প্লাস্টারের ভেতরে থাকবে। এই নড়াচড়া না থাকার কারণে, প্লাস্টারের ভেতরে বন্ধ থাকার কারণে তার ওই অংশের হাড়টুকু ক্ষয় হবে। একে আমরা বলি সেকেন্ডারি অস্টিওপরোসিস। একে আমরা বলতে পারি ডিসইউজ (অব্যবহৃত)। এ কারণে অস্টিওপরোসিস হচ্ছে। এটি থেকে বোঝা যায়, যারা কম কাজ করে, তাদের তরুণ বয়সেও অস্টিওপরোসিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যারা যত বেশি কর্মক্ষম জীবনযাপন করবে, তাদের হাড়ের ঘনত্ব তত বেশি হবে। তাদের হাড় তত মজবুত থাকে।

আমাদের হাড়ে দুই ধরনের কোষ রয়েছে। একটি হাড় তৈরি করে, আরেকটি হলো হাড় ক্ষয় করে। দুটোই কিন্তু দরকারি। ক্ষয় ঠিক করার কোষ যদি না থাকে, তাহলে হাড় ভাঙার পর যেই জোড়া লাগে, সেটি এবড়োখেবড়োভাবে হবে। এই জোড়াটাকে সুন্দর কোষ এনে দেওয়ার জন্য ওই কোষটি কাজ করে। একে আমরা বলি অস্টিওক্লাস্ট। আরেকটি হলো অস্টিওব্লাস্ট। অস্টিওব্লাস্টের কাজ হলো হাড় তৈরি করা। অস্টিওব্লাস্টের কাজ করাটা চল্লিশের আগে বেশি থাকে। অর্থাৎ হাড় তৈরি হয় বেশি, ক্ষয় হয় কম। তবে চল্লিশের পর ক্ষয় বেশি হয়, তৈরি কম হয়। এই জন্য আমরা বলি, চল্লিশের পর যার মজুদ যত বেশি থাকবে, ক্ষয় হলেও কিছু থাকবে।

তাই চল্লিশের আগে ব্যায়াম করা এবং খাবার-দাবার ঠিকমতো খাওয়ার বিষয়গুলো যদি কেউ মেনে চলে, তার হাড়ের ঘনত্ব যদি সে বাড়িয়ে নিতে পারে, তরুণ বয়সে, তাহলে প্রবীণ বয়সে তার অস্টিওপরোসিস হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।

আর নারীদের ক্ষেত্রে খুব প্রচলিত সমস্যা হলো মেনোপজ। মানে ঋতুস্রাব যদি বন্ধ হয়ে যায়, শরীরের একটি হরমোন তৈরি বন্ধ হয়ে যায়, এই হরমোনটি হাড়কে শক্ত রাখার জন্য জরুরি। যখনই এর অভাব দেখা দেয়, তখন হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়।

 

সংগৃহীত : এনটিভি

আরও পড়ুন

Advertisement (Adsense)