ঢাকা, সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া একটি পেরাসিটামল ও না

নিজে নিজে ডাক্তারি করে ওষুধ খাচ্ছেন? সাবধান !!!

স্বাস্থ্য ডেস্ক
নিজে নিজে ডাক্তারি করে ওষুধ খাচ্ছেন? সাবধান !!!
সংগৃহীত : ছবি
Advertisement (Adsense)

কম বেশি বিভিন্ন ধরণের ব্যাথা আমাদের সকলেরই হয়। জেনে না জেনে আমরা অনেকেই হুট করে বলে ফেলি 'পেইন কিলার খেয়ে ফেলো, ব্যাথা সেরে যাবে'। এই যে না জেনে অতি ডাক্তারি করে ফেললাম, তার প্রভাব সম্পর্কে কি জানা আছে কারো? বেশির ভাগ উত্তরই হবে 'না'। ডাক্তারি প্রেসক্রিপশন ছাড়া যেখানে কোন ধরণের ওষুধ খাওয়াই উচিত নয় সেখানে পেইনকিলারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের ক্ষেত্রে তা তো একবারে মৃত্যু ডেকে আনার মত ব্যাপার...

মাইগ্রেন বা অার্থ্রাইটিসের মতো রোগের কারণেও যখন তখন পেইনকিলার খাওয়া হয়। অনেকেই আবার আরো সাধারণ সমস্যায়ও এই ধরনের ওষুধ খান। ডাক্তারি ব্যবস্থাপত্র বা কোন ধরণের টেস্ট ছাড়াই এই ধরনের ব্যাথানাশক গ্রহণ করলে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

অনিয়ন্ত্রিত ব্যাথানাশক গ্রহণের ফলে গ্যাস্ট্রিক, পেটে যন্ত্রণা, রক্ত বমির মতো রোগ দেখা দেয়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ইউরিন ইনফেকশন বা ইউরিন বন্ধও হয়ে যেতে পারে। শুধু তাই নয় আলসারও হতে পারে অতিরিক্ত পেইনকিলার খেলে। আর আপনার যে সবচেয়ে বড় ক্ষতিটি হবে তা হলো কিডনি ডেমেজ।

যে কোন ধরণের ব্যাথানাশকই কিডনি নষ্ট করে দিতে পারে যদি সেটি দীর্ঘদিন গ্রহণ করা হয়। আর তা যদি হয় নিয়মের বাইরে তাহলে তো কথাই নেই। অতিরিক্ত ব্যথানাশক সেবনে এখানেই থেমে যাবেন না, আপনার পাকস্থলীর প্রদান বা পাকস্থলীর গাত্রে ঘা ও ক্ষত তৈরি হতে পারে অতিরিক্ত পেইনকিলারের প্রভাবে।

আমরা অনেকেই যে তথ্যটি জানি না তা হলো, বাজারে যে পেইনকিলার পাওয়া যায় তা মূলত দুই ধরনের। যার একটি স্টেরয়েড অন্যটি  নন-স্টেরয়েড। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কড়া ডোজের যে ওষুধ আপনি গ্রহণ করছেন তা চিকিৎসক আপনার শারীরিক অবস্থার প্রেক্ষিতে দিয়েছেন। বেশিরভাগ সময়েই নির্দিস্ট একটা সময় থাকে পেইনকিলার নেয়ার কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে তা ব্যবহারের ফলে না জেনেই আপনি হাই ব্লাডপ্রেশার ও কিডনি ডেমেজের কবলে পড়তে পারেন।

অনেক সময় ধরে বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে পেইন কিলার গ্রহণের ফলে কিডনি জনিত রোগে আপনার ডায়ালাইসিসও লাগতে পারে। আবার অনেক সময় ডাক্তারি ভাষায় ক্রনিক রেনাল ফেইলিউর দেখা দেয় যাকে আমরা পুরো কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া বুঝি। আর সেক্ষেত্রে কিডনি প্রতিস্থাপন করা না গেলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

কম ডোজের পেইনকিলার যেমন: এসপিরিন সাধারণভাবে গ্রহণ করা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। কিন্তু উচ্চমাত্রায় বা বেশি পরিমাণে এই জাতীয় ওষুধটিই আপনার প্রাণঘাতী হতে পারে। শুধু এই অসাবধানতার কারণেই আপনার হাই ব্লাড প্রেশার, কিডনি ডেমেজ, রক্তক্ষরণ, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, হার্ট ফেইলিউর, বুকে ব্যাথার মতো নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাছাড়া ডায়াবেটিক রোগীর ক্ষেত্রে তো এই সমস্যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটায়। আর তাই ষাট এর অধিক ও দশ বছরের কম বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কোন ভাবেই যে কোন ধরণের ব্যাথার ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দেয়া যাবে না। এমন কি সুস্থ মানুষও না জেনে কোন পেইনকিলার খাওয়া উচিত না।

সাময়িক ব্যাথা থেকে আরাম পেতে হুট হাট  ব্যাথানাশক ওষুধকে প্রথমেই না বলুন। বরং সঠিক চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে যান। আর যদি অবস্থা এমন হয় যে গ্রামে আছেন বা ডাক্তার পাওয়া যাচ্ছে না তবে একটু অপেক্ষা করুন। বেশি রকম সমস্যা হলে ব্যাথার জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেতে পারেন। যা সরাসরি কিডনির ক্ষতি করবে না। 

সতর্কতা হিসেবে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে আপনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন কিনা। কারণ যে সব রোগীরা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ গ্রহণ করছেন তাদের ক্ষেত্রে উচ্চ মাত্রার ব্যাথানাশক ওষুধের ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে। আর যারা আগে থেকেই কিডনির সমস্যা ও ডায়াবেটিকে আক্রান্ত তাদেরও পেইনকিলার গ্রহণের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ এ ধরনের রোগীরা একই সাথে দুই ধরনের বিপরীতমুখী ওষুধ গ্রহণের ফলে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হতে পারেন।

অন্যদিকে, ডায়রিয়ার মত অসুখে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায় বলে এসব সমস্যায় হুট হাট পেইনকিলার খাওয়া নিষেধ করা হয়। এতে করে কিডনিতে প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে ক্ষতি হবার আশঙ্কা বেড়ে যায়। 

তাই না জেনে যখন তখন পেইনকিলার বা ব্যাথা কমানোর যেকোন ধরণের এন্টিবায়োটিক খাওয়া অবশ্যই ছাড়তে হবে। সিদ্ধান্ত নিন আজই, না জেনে পেইনকিলার আর নয়। আগে ভাগে সাবধান হোন, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এগিয়ে থাকুন।

আরও পড়ুন

Advertisement (Adsense)