ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জেনে নিন

নখের রোগ ও তার চিকিৎসা

রূপচর্চা ডেস্ক
নখের রোগ ও তার চিকিৎসা
সংগৃহীত : ছবি
Advertisement (Adsense)

নখের অসংখ্য রোগ আছে। তবে এখানে কয়েকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রোগ নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো :-

প্যারোনাইকিয়া :
নখের ভাজযুক্ত স্থানে প্রদাহ বা সংক্রমণ হওয়াকেই প্যারোনাইকিয়া বলা হয়। এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যুবতী মেয়েদের বেশি হতে দেখা যায়, বিশেষ করে যারা পানি বেশি নাড়াচাড়া করে। যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের ক্ষেত্রেও এটি বেশি হয়। এছাড়া লন্ড্রির কর্মচারী ও রেস্টুরেন্ট কর্মচারী, রান্নাঘরের বাবুর্চি বা কর্মচারীদের মধ্যেও বেশি হতে দেখা যায়। এর আর একটি কারণ হতে পারে যদি কোনো কারণে নখে কোনো আঘাত লাগে, সুচ ফোটে বা সেখানে জীবাণু দূষণ ঘটে তাহলেও এ রোগ সৃষ্টি হতে পারে। এটি ব্যাকটেরিয়া বা ক্যানডিডা (ছত্রাক) বা দুটির আক্রমণের কারণেই হতে পারে। প্যারোনাইকিয়া যদি ক্রনিক বা দীর্ঘদিনের হয় তাহলে সেটাকে ক্যানডিডার (ফাংগাসের) কারণেই হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে। তবে সদ্য প্যারোনাইকিয়ার ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার কথাই সর্বপ্রথম বিবেচনায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে নখের ভাজে ব্যথা হয় এবং ক্রমেই তা গোটা আঙ্গুলের মাথায় ছড়িয়ে পড়ে। আঙ্গুলের মাথা ফুলে ওঠে এবং লাল আকার ধারণ করে। এরপর চিড়িক মারা যন্ত্রণাভাবও থাকতে পারে এবং সেই সঙ্গে ভেতরে পুঁজ জমে। চাপ দিলে পুঁজ বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। হালকা জ্বর জ্বর ভাবও থাকতে পারে। ক্রনিক হয়ে গেলে যন্ত্রণা থাকে না, তবে যৎসামান্য ব্যথা থাকে। রোগটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বৃদ্ধা বা বুড়ো আঙ্গুলে বেশি হয়, তবে অন্যান্য আঙ্গুলেও হতে পারে।

চিকিৎসা : 
হাত সব সময় শুষ্ক রাখতে হবে। কারণ অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিফাংগাল দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে।

টিনিয়া আনগুইয়াম বা নখের ছত্রাক রোগ : 
এক্ষেত্রে নখ ছত্রাক দিয়ে আক্রান্ত হয়। সবচেয়ে বেশি এবং প্রথমে পায়ের বড় আঙ্গুলের নখে সাধারণত আক্রমণ ঘটে। প্রথমে একটি নখ আক্রান্ত হয় তারপর ক্রমে সব নখেই ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এতে নখ মোটা ও কর্কশ হয়ে পড়ে। নখ ক্রমেই ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং সাধারণ চাপেই ভেঙ্গে যেতে পারে। এতে নখের নিচের চামড়া বা মাংস অংশে সামান্য ব্যথা অনুভব হয়ে থাকে। তবে কোনো রকম চুলকানি থাকে না। এক্ষেত্রে আক্রান্ত নখের নিচের অংশ বেছে নিয়ে তা যদি পরীক্ষা করা হয়, তাহলে এ রোগ খুব সহজেই নির্ণয় করা যায়।

চিকিৎসা : 
ফাংগাস নামক ওষুধ সেবনে এ রোগ ভালো হয়। তবে একটি কথা মনে রাখতেই হবে পানিতে হাত ভেজানো সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখতে হবে। তা না হলে চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকবে।

নকখুনি : 
ত্রুটিপূর্ণভাবে নখ কাটার কারণে এ রোগটি হতে দেখা যায়। সে জন্য সব সময়ই নখ সতর্কতার সঙ্গে কাটতে হবে। এক্ষেত্রে নখের এক কোণা বৃদ্ধি পেয়ে নখের পাশে মাংশল অংশে ঢুকে পড়ে। ফলে সেখানে জীবাণুর দূষণ ঘটে। রোগটি সাধারণত বুড়ো আঙ্গুলের কোণেই বেশি হয় এবং নখের কোণে প্রচন্ড ব্যথা হয়। ফুলে ওঠে, পুঁজ জন্মে এবং সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। কাদামাটি, বর্ষা, স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় এটি বেড়ে যেতে পারে।

চিকিৎসা : 
আক্রান্তের পরিমাণ কম হলে ট্রাইক্লোরো এসিটিক এসিড বা সিলভার নাইট্রেট ব্যবহারে উপকার হয়। অনেক ক্ষেত্রে নখ তুলে ফেলার প্রয়োজন হয়। ইনফেকশন থাকলে অ্যান্টিবায়োটিকও ব্যবহার করতে হবে।

 

ডা. দিদারুল আহসান, চর্ম, অ্যালার্জি ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ
চেম্বার : আল-রাজি হাসপাতাল ১২, ফার্মগেট, ঢাকা।
ফোন : ৯১৩৩৫৬৪, ০১৭১৫৬১৬২০০

আরও পড়ুন

Advertisement (Adsense)